1. [email protected] : ProtikhonBarta :
শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মানবাধিকার চেয়ারম্যান মোঃ সোবাহান বেপারী প্রবাসে বাঙালি নারীর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত-শেখ জেসমিন জাহিদ। কবি গবেষক মুহাম্মদ শামছুল হক বাবু ও কবি ইশরাক আরা লাইজু নিমনির “অনুভবের কথামালা” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। সাতগাঁও গণমূল্যায়ন পরিষদের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন,আবেদ সভাপতি,আলমগীর সাধারন সম্পাদক,লিটন সাংগঠনিক। দুই বাংলার জনপ্রিয় স্যাটেলাইট চ্যানেল এক্সপ্রেস নিউজ টিভির গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি আবেদ আহমেদ। সাংবাদিক কন্যা আদিবা সুলতানা আফরিন এর শুভ জন্মদিন আজ নওগাঁর সাপাহারে মাল্টা চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা: বাজারজাত নিয়ে বিপাকে চাষীরা! শ্রীমঙ্গলে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে তানিয়া আক্তার হবিগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই ডাকাত আটক কারাগারে প্রেরণ নওগাঁর সাপাহারে রক্তদাতা সংগঠনের শীতবস্ত্র বিতরণ
নোটিশ:
সাংবাদিক নিয়োগ চলছে.. যোগাযোগঃ 01719-763530, 01713-685053 ইমেল করুনঃ [email protected]

নবীগঞ্জে অন্ধ ছেলের গানের টাকায় চলে সংসার

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২০
  • ২১১ বার পড়া হয়েছে

সেলিম উদ্দিন। সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে এক অসহায় পরিবারের জীবন চলে অন্ধ ছেলের গানের টাকা দিয়ে। দারিদ্রতার আষ্টেপৃষ্টে বাধাঁ তাদের জীবন মান। পরিবারটি হলো নবীগঞ্জ উপজেলার ১নং পশ্চিম বড় ভাকৈর ইউনিয়নের ফতেহপুর লামাহাটি গ্রামের বাসিন্দা নরেন্দ্র বৈষ্ণবের। তার ২ছেলে ও ২মেয়ে।

দুই মেয়েকে ধারদেনা করে অতিকষ্টে বিয়ে দেয়া হয়। ছেলে বিশ্বজিৎ বৈষ্ণব (২৪) ও বিধুর বৈষ্ণব (১২) জন্মগতভাবে অন্ধ। জন্মের পর পৃথিবীর আলো বাতাস দেখতে পায়নি তারা। পরিবারের কর্তা নরেন্দ্র বৈষ্ণব হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর কোন কাজকর্ম করতে পারেন না। অনাহারে অর্ধাহারে চলে তাদের সংসার। এমন করুন দশায় পরিবারের হাল ধরেন অন্ধ ছেলে বিশ্বজিৎ বৈষ্ণব। সে মোবাইল ফোনে গান শুনতে শুনতে হয়ে উঠেন বাউল শিল্পী। এক সময় এই অন্ধ বিশ্বজিৎ বাউল শিল্পী আব্দুস ছালামের সাথে যোগাযোগ করে কিছু তালিম নেন। নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসেন গান ও বেহালা। অন্ধ ছোট ভাই বিধুর বৈষ্ণব নিজে নিজে ঢোল বাজানো শিখে ফেলেন। এক পর্যায়ে দুই অন্ধ ছেলে পরিবারের হাল ধরেন। বাবার চিকিৎসা, পরিবারের সবার মুখে এক মুঠো ভাত যোগাড় করতে বেড়িয়ে পরেন পাড়া-মহল্লায়, গ্রামে-গঞ্জে ও হাট-বাজারে। জমিয়ে তোলেন গানের আসর।

অন্ধ এই বাউল শিল্পীর গানে মুগ্ধ হয়ে উপস্থিত লোকজন যা দেন তা থেকে যাতায়াত খরচ বাদে অবশিষ্ট অংশ দিয়েই চলে তাদের সংসার। ছোট ভাই অন্ধ বিধুর বৈষ্ণব ঢোল বাজিয়ে, অসুস্থ বাবা নরেন্দ্র বৈষ্ণব মন্দিরা বাজিয়ে সহযোগিতা করেন। এ সময় তাদের বৃদ্ধা মা মুক্তা রানী বৈষ্ণবও বিভিন্নভাবে ছেলেকে উৎসাহ ও সহযোগিতা করেন।

গত বুধবার দুপুরে নবীগঞ্জ শহরে লোকজনের ভীড় দেখে এগিয়ে গেলে এমন দৃশ্য চোঁখে পড়ে। গানের বিরতিতে কথা হয় তাদের সাথে। এ প্রতিনিধির সাথে আলোচনাকালে আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অন্ধ বিশ্বজিৎ।

তিনি জানান, সংসারের আহার জুটাতে এবং বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য ইচ্ছা করলে ভিক্ষায় নামতে পারতেন তারা। কিন্তু ভিক্ষা করা তাদের পছন্দ নয়। তাই মোবাইল ফোনে গান শুনতে শুনতে এবং ওস্তাদ বাউল ছালামের কাছে তালিম নিয়ে তিনি নিজেকে একজন বাউল শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলেন। মাঝে মধ্যে লোকজন আদর করে তাদেরকে বিভিন্ন স্টেইজ প্রোগ্রামে নেন। সেখানে হাজার খানেক টাকা পাওয়া যায়।

এছাড়া স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তাদের দুইভাইকে প্রতিবন্ধি ভাতা দিয়েছেন। তার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন হলো একজন পরিপূর্ণ বাউল শিল্পী হওয়া।

বিশ্বজিৎ বলেন, তার এই স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যাবে। দারিদ্রতার আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা। তাই তার দাবী ও অনুরোধ জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে তাদের পরিবারের এই করুন পরিণতির কথা তোলে ধরলে দেশবাসীর কাছ থেকে সহযোগিতা পাবে। এছাড়াও সরকারের নিকটও তাদের পরিবারের প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন