1. [email protected] : ProtikhonBarta :
বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
দুই বাংলার জনপ্রিয় স্যাটেলাইট চ্যানেল এক্সপ্রেস নিউজ টিভির গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি আবেদ আহমেদ। সাংবাদিক কন্যা আদিবা সুলতানা আফরিন এর শুভ জন্মদিন আজ নওগাঁর সাপাহারে মাল্টা চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা: বাজারজাত নিয়ে বিপাকে চাষীরা! শ্রীমঙ্গলে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে তানিয়া আক্তার হবিগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই ডাকাত আটক কারাগারে প্রেরণ নওগাঁর সাপাহারে রক্তদাতা সংগঠনের শীতবস্ত্র বিতরণ প্রতিক্ষণ বার্তার নামে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদ এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ। প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদ এর বিরোদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ। শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু রনধীর কুমার দেব ভারতে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। যুবলীগ সম্পাদক উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে শরীফপুরে মানববন্ধন।
নোটিশ:
সাংবাদিক নিয়োগ চলছে.. যোগাযোগঃ 01719-763530, 01713-685053 ইমেল করুনঃ [email protected]

স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ যেন দিন দিন বৃদ্ধি হোক স্বেচ্ছায় রক্তদাতা

  • প্রকাশিত : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২০
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

শেখ আরিফ
আজ ২রা নভেম্বর জাতীয় রক্তদান দিবস। নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হবে দিবসটি। আরে এই দিবসটি উদযাপনের জন্য কাজ করবে বিভিন্ন সামাজিক ও অরাজনৈতিক সমাজসেবামূলক সংগঠন সমূহ। এছাড়াও উক্ত কর্মসূচিকে শুধু কেবল মাত্র একটি দিবস হিসেবে নয় বরং বিশ্বের প্রতিটি মানুষের হৃদয় যেন রক্তদান বিষয় উৎসাহ, উদ্দীপনা, ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ যেন দিন দিন বৃদ্ধি পায় সেই আশায় কাজ করে যাচ্ছে নানান স্বেচ্ছায় রক্তদান সংগঠন।

বাংলাদেশে রক্তদানের শুরু::

‌বাংলাদেশে স্বেচ্ছা রক্তদানের ইতিহাস শুরু হয় ১৯৭২ সালে। দেশের প্রবীণ রক্তসঞ্চালনবিদ প্রফেসর ডা. মুজিবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে ১৯৭২ সালের ১০ জুন জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম নিজ রক্তদানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের সূচনা করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ রেডক্রস (পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি) শুরু করে তার ব্লাড ব্যাংক কার্যক্রম।

মানবদেহে প্রথম রক্তদানের সফল প্রয়োগ::

মানবদেহে প্রথম রক্তদানের সফল প্রয়োগ ঘটানো হয়েছিল ভেড়ার রক্ত দিয়ে। আর তা করেছিলেন ফরাসি বিজ্ঞানী ডাঃ জ্যঁ ব্যাপ্তিস্তে ডেনিস। ১৬৬৭সালে তিনি এক আহত কিশোরের দেহে ১২ আউন্স ভেড়ার রক্ত দিয়ে রক্তদানের সফল সূচনা ঘটান। আর এ সালেই ফ্রান্সে মানবদেহে প্রাণীর রক্ত প্রয়োগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
পরে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অস্ট্রিয়ান জীববিজ্ঞানী ও চিকিৎসক কার্ল ল্যান্ডস্টেনার রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করার পর ১৯০২ সালে রক্তদান নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অবশ্য রক্ত নিয়ে বিজ্ঞানিদের চিন্তাভাবনা শুরু আরো অনেক আগে। ১৬১৬ সালে ইংরেজ চিকিৎসক ডা. উইলিয়াম হার্ভের গবেষণার মাধ্যমে মানুষ প্রথম জানতে পারে যে, মানবদেহের অভ্যন্তরে রক্ত প্রবাহিত হয়। ১৬৫৭ সালে উইলিয়াম হার্ভে আবিষ্কৃত যন্ত্র ব্যবহার করে জন্তুর দেহে ইনজেকশনের মাধ্যমে তরল পদার্থ প্রবেশ করান স্যার ক্রিস্টোফার রেন।

১৬৬৬ সালে ডা. রিচার্ড লোয়ার সফলভাবে প্রথমবারের মতো একটি কুকুরের দেহ থেকে
আরেকটি কুকুরের দেহে রক্ত সঞ্চালনের পরীক্ষা চালান। অবশ্য এর পরে পশুর দেহ থেকে
মানবদেহে রক্ত পরিসঞ্চালন করতে গিয়ে চিকিৎসকদের হাতে প্রাণ হারান অনেক মানুষ।
১৬৭৮ সালে রক্ত পরিসঞ্চালনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেন পোপ। ১৮১৮ সালে ডা. জেমস ব্লান্ডেল নামে একজন ইংরেজ ধাত্রীবিদ্যাবিশারদ রক্ত পরিসঞ্চালনের জন্যে একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন যা দিয়ে সফলভাবে একজন সুস্থ মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের দেহে রক্ত পরিসঞ্চালন করে তাকে বাঁচিয়ে তোলা হয়। তিনিই প্রথম বলেন যে, একজন মানুষের শরীরে কেবল আরেকজন মানুষের রক্তই দেয়া যাবে।
১৯০১ সালে ডা. কার্ল ল্যান্ডস্টেনার দেখান, মানুষের রক্তের প্রধানত ৪ টি গ্রুপ রয়েছে,
অ, ই, অই এবং ঙ. প্রথমবারের মতো মানুষ বুঝলো যে, এতো ধরে তাদের ভুলটা ঠিক কোথায় হচ্ছিলো। এরপর ১৯০২ সালে রক্তদান নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯১৪-১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের এ সময়টায় যুদ্ধাহত হাজার হাজার মানুষকে বাঁচাতে অনেক রক্তের প্রয়োজন হয়েছিলো।

মানুষ আবিষ্কার করলো দুটো বিষয়::

এক.
রক্তদাতার শরীর থেকে বের করে নেওয়ার পর ঐ রক্তকে জমাট বাঁধার হাত থেকে রক্ষা
করা যায় যদি তাতে সোডিয়াম সাইট্রেট মেশানো হয়।

দুই.
অন্য আরও অনেক জিনিসের মতো রক্তকেও ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করা যায়। ১৯১৬ সালে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সংরক্ষিত রক্তকে আরেকজনের দেহে প্রবেশ করানো হয়। এই ধারণা থেকেই ফ্রান্সে বিশ্বের প্রথম ব্লাড ব্যাংকের সূচনা করেন একজন আমেরিকান সেনা কর্মকর্তা ও মেডিকেল গবেষক অসওয়াল্ড হোপ রবার্টসন।

১৯২১ সালে লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে বৃটিশ রেডক্রসের সদস্যরা সবাই একযোগে রক্ত দেন। সূচিত হয় বিশ্বের প্রথম স্বেচ্ছা রক্তদানের দৃষ্টান্ত। ১৯২৫ সালে রক্ত পরিসঞ্চালন নিয়ে গবেষণার জন্যে মস্কোতে ড. আলেক্সান্ডার বগদানভের নেতৃত্বে একটি ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৭ সালে আমেরিকার শিকাগোর কুক কাউন্টি হাসপাতালে বিশ্বের প্রথম ব্লাড ব্যাংক স্থাপিত হয়। বাংলাদেশে স্বেচ্ছা রক্তদানের ইতিহাস শুরু হয় ১৯৭২ সালে। দেশের প্রবীণ রক্তসঞ্চালনবিদ প্রফেসর ডা. মুজিবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে ১৯৭২ সালের ১০ জুন জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম নিজ রক্তদানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের সূচনা করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ রেডক্রস (পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি) শুরু করে তার ব্লাড ব্যাংক কার্যক্রম।

লেখক::

কে এস এম আরিফুল ইসলাম
সমাজ বিশ্লেষক ও প্রগতিশীল কলামিস্ট
ব্যাচেলর অফ সোশ্যাল সায়েন্স (দ্বিতীয় বর্ষ)
বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন