1. [email protected] : ProtikhonBarta :
বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কবি গবেষক মুহাম্মদ শামছুল হক বাবু ও কবি ইশরাক আরা লাইজু নিমনির “অনুভবের কথামালা” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। সাতগাঁও গণমূল্যায়ন পরিষদের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন,আবেদ সভাপতি,আলমগীর সাধারন সম্পাদক,লিটন সাংগঠনিক। দুই বাংলার জনপ্রিয় স্যাটেলাইট চ্যানেল এক্সপ্রেস নিউজ টিভির গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি আবেদ আহমেদ। সাংবাদিক কন্যা আদিবা সুলতানা আফরিন এর শুভ জন্মদিন আজ নওগাঁর সাপাহারে মাল্টা চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা: বাজারজাত নিয়ে বিপাকে চাষীরা! শ্রীমঙ্গলে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে তানিয়া আক্তার হবিগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই ডাকাত আটক কারাগারে প্রেরণ নওগাঁর সাপাহারে রক্তদাতা সংগঠনের শীতবস্ত্র বিতরণ প্রতিক্ষণ বার্তার নামে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদ এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ। প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদ এর বিরোদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ।
নোটিশ:
সাংবাদিক নিয়োগ চলছে.. যোগাযোগঃ 01719-763530, 01713-685053 ইমেল করুনঃ [email protected]

গল্প হিমুর স্বরণে

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৫৯ বার পড়া হয়েছে

সাইফুল ইসলাম সুজন

রেল স্টেশনে বসে অাছি,তবে ট্রেনের অপেক্ষায় নয়,স্টেশনে অাসলে মনটা ভালো হয়ে যায়,এখানে নানান রকমের মানুষ দেখা যায়,অনেক ধরনের ফকির, পাগল,ধনী, গরীব সহ সব ধরনের মানুষ, এই ধরনের চিত্র কেবল রেল স্টেশনেই দেখা যায়, বাস স্টেশনে এমন দৃশ্য তেমন চোখে পড়েনা, অার বিমান স্টেশনে (ইয়ারপোর্ট) তো ফকির, পাগল থাকার তো কোন অপশনই নাই,।
অামি যখন সময় পাই তখনই এই স্টেশনে চলে অাসি,অাবার কিছু কিছু মানুষের সাথে পরিচিতও হই।
অাজকের স্টেশনের চিত্র ভিন্ন নয়। অামার পাশেই একটা ফকির বসে অাছে , দেখা যাচ্ছে তার ২ টা পা নেই,তবে হাত ২ টা ঠিকই অাছে, এই ফকির টার দিকে অামি তাকিয়ে অাছি, সেও মাঝে মাঝে অামার দিকে তাকাচ্ছে। এই ফকিরটা অামার পূর্ব পরিচিত। তবে অাত্নীয় সূত্রে নয়, চেয়ে থাকার সূত্রে,।মাঝে মাঝে ভাবি ফকিরটার সাথে কথা বলি,অাবার ভাবি অাজ নয় কাল, এই ভাবে কয়েক বছর চলেগেছে । সব চেয়ে মজার বেপার হল এই ফকিরটা সবার কাছে টাকা চায়না,সে বেশী মহিলা অার ছাত্র-ছাত্রী দের কাছে টাকা চায়। পাশে যদি অনেক বড় লোক একটা পুরুষ মানুষ দাড়িয়ে থাকে এবং তার হাতে যদি টাকা বের করা থাকে তার পরেও তার কাছে কখনোও টাকা চাইবেনা, এর কারণ টা জানতে ইচ্ছে করে,।
অারেকটা বেপার রয়েছে সেটা হচ্ছে এই ফকিরটা ২ টা বিয়ে করেছে ,২ টা বউই অাছে।
কোন কোন দিন দেখা যায় তার বউদের, তারে নিয়ে টানা-ছেঁচড়া করে,
অামি তো রীতিমত অবাক হয়ে যায়,এর দুটা পা নেই,অাবার ফকির, তারে নিয়ে এমন!!!
এটা অন্যরকম একটা দৃশ্য, বলতে গেলে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে এই স্টেশনকে ঘিরে।
এমন সময় একটা ট্রেনে অাসে স্টেশনে,হকার গুলো দুরাচ্ছে,পানি, রুটি, কলা ইত্যাদি নিয়ে, রুটি কলা দেখে খেতে মন চাইল, কিন্তু এমন ভিরের মাঝে কিনব না , চিন্তা করলাম ট্রেনটা চলে যাওয়ার পর কলা রুটি খাবো । অনেকে পারাপরি হুরাহুরি করে ট্রেন থেকে নামছে অাবার অনেকে উঠছে, কেউ কেউ অাবার জানালা দিয়েও উঠচ্ছে,।কি একটা দৃশ্য!, সেকেন্ডেই চিন্তা করলাম, বাংলাদেশ এই একমাত্র যানবাহন যার কিনা জানালা দিয়েও উঠা যায় অাবার নামা যায়, অামার খুব ভালোলাগছে দৃশটা।
এখন অামার পাশের সিট গুলি খালি, যারা যারা সিটে বসা ছিল তাদের বেশীর ভাগ লোকই এই ট্রেনের অপেক্ষায় ছিল, ট্রেন অাসা মাত্রই………….।
এমন সময় ট্রেন থেকে নেমে মধ্যো বয়স্ক একটা লোক সাথে মনে তার স্ত্রী এবং তার ১৪ – ১৫ বছরের একটা মেয়ে এবং ৬-৭ বছরের একটা ছেলে সবাই অামার পাশে এসে বসে। সাথে ছেলে টাকে দেখে বুঝা যাচ্ছে খুব চঞ্চল,অার মেয়েটা খুব শান্ত । অামি লোকটার দিকে তাকালাম, মুখের দিকে লক্ষ করে বুঝলাম খুব রাগান্বিত অবস্থায় রয়েছে, মনে হচ্ছে ট্রেনের মধ্যে তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হয়েছে, সবাই চুপ করে রয়েছে। লোকটার মুখে কোন দাড়ি নাই ক্লিন সেভ করা, তবে গুফ রেখেছে তামিল সিনেমার বিলেনদের মত।
তাকে দেখে মনে হচ্ছে পুলিশের লোক হবে ।হয়ত ঘুষ খাওয়ার অপরাধে ট্রান্সফার করে দিছে। লোকটা দেখে তো অামার ভালো লাগছে, বার বার কাকে যেন ফোন করছে, হয়তো ফোন টা বন্ধ পাচ্ছে। এমন সময় পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে অামাকে বলছে
– ভাই মেস অাছে?
– অামি তো সিগারেট খাইনা
লোকটা সামান্য রাগান্বিত কণ্ঠে বলল,-অামি কি অাপনাকে সিগারেট খেতে বলেছি?? বলেছি মেস অাছে কিনা, না থাকলে না করবেন।
অামি বললাম অামি সিগারেট না খেলে কিরে মে……..।কথা শেষ না করতেই অামাকে চুপ করতে বলে, অার অামিও চুপ হয়ে যাই।লোকটা সিগারেট টা অাবার পেকেটে রেখে দিল, মনে মনে ভাবলাম পাশেই পান সিগারেটের দোকান সেখান থেকে তো সিগারেটা ধরিয়ে অানতে পারে।দেখে বুঝা যায়না অলস।তবুও……..
তবে এমন মানুষের সাথে পরিচিত হলে অনেক ঘটনা ঘটে যায়। অার অামিও সেটায় চাই।

এমন সময় দুরে অাবির কে দেখতে পেলাম, অামি ডাকলাম অাবির কে, অাসলে অাবিরের নাম অাবির না, অামিই অাবির নামটা দিয়েছি, অাবির নামের অর্থ হচ্ছে রং ধনু বা হরেক রকমের রং।অাবিরের অনেক গুলো জামা,একক দিন এককটা পরে, অামি খুব লক্ষ করেছি তার কাছে প্রায় সব কালারের জামা অাছে, তাই তার নাম অাবির রাখছি। অার অাবিরের সাথে অামার এই স্টেশনেই পরিচয়। অাবির পকেট পেশায় কাজ করে,। অাবির অামার ডাকে কাছে চলো অাসে।
অামি বললাম কেমন অাছিস,তর ব্যবসা কেমন চলছে,?
অাবির- জ্বী ভালো অাছি, তবে ব্যবসা ভালো চলছে না,এখন মানুষ চালাক হয়ে গেছে। অাপনি কেমন অাছেন?
অামি-অালহামদুলিল্লাহ ভালো,
অাবির -অাচ্ছা ভাই একটা কথা বলি?
অামি-বল?
অাবির -অাপনার সাথে অামার পরিচয় ২ বছর ধরে ,পকেট মারার অপরাধে লোকজনে অামাকে মারছি তখন অাপনি অামাকে বাঁচালেন ঠিক সেইদিন থেকে অাজ পর্যন্তু এই ছাই কালার পাঞ্জাবী টা দেখছি,
অাপনার এই কালারের কয়টা পাঞ্জাবী?
অামি -এই একটাই,ছাই কালারে কারণে নতুন পুরাতন বুঝা যায়না,
অাবির – বুঝতে পারছি এই কালার টা মনে হয় অাপনার অনেক পছন্দের!
অামি -না একদুমই না। পছন্দ মত সব পেয়ে গেলে সেই পছন্দে মূল্যায়ন টা কমে যায়।
অাবির – ভাই অাপনার ঔ অাধ্যাদিক কথার মানে কোনো দিন অামার মাথায় ঢুকলোনা অাজও ঢুকবেনা । ঐ যে অারেকটা ট্রেন অাসল, দেখি কিছু করতে পারি কিনা।

এইদিকে ঐ লোকটা অামাদের সব কথা শুনছিল,অার ফেল ফেল করে তাকিয়ে ছিল,, অামি বললাম কোথাই যাবেন? সে বলল জানিনা, তখন বুঝে গেলাম এখানে নতুন অাসছে, হয়ত তাকে কেউ নিতে অাসার কথা ছিল , কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাচ্ছে, সেই জন্য অারও বেশী রেগে অাছে.।তার কথা শুর ধরে তার স্ত্রী বলল, অামরা এখানে প্রথম অাসছি, থানা থেকে নজরুল নামে এক হাবিলদার অাসার কথা, সে নাকি বাসা ঠিক করে রেখেছে, অামরা সরাসরি বাসায় উঠবো,অামি বললাম থানায় ফোন দিতে, সে বলল থানায় নাকি ফোন দিছিল হাবিলদার ছুটিতে অাছে ২ দিন ধরে।(চলমান)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন